শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ৫ গুরুত্বপূর্ণ দিক

প্রথম কয়েক বছর শুধু মায়ের নয় শিশুরও জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টিই সেই সময় যখন শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি হয়। যা তার ভবিষ্যৎ জীবনকে প্রভাবিত করে। আজকের আমরা শেয়ার করব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
১. শারীরিক বিকাশ: শিশুর মস্তিষ্ক ও শরীরের গ্রোথ
শিশুর শারীরিক বিকাশের শুরু হয় তার মস্তিষ্ক এবং শরীরের মৌলিক দক্ষতার বিকাশ দিয়ে। শুরুর দিকে শিশুর মাথার ভার ধরে রাখার ক্ষমতা তৈরি হয়, এতে সে বসা, দাঁড়ানো এবং হাঁটতে শিখে।
এই গ্রোথ সাইকেলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলোঃ
- মস্তিষ্কের বিকাশ: মস্তিষ্কের বিকাশ শুরু হয় জন্মের পর থেকে, এবং এই সময়ে শিশুর শেখার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মাংসপেশী শক্তি: শিশুর মাংসপেশীর শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথমে গড়গড়িয়ে হাত পা চালানোর পর, ধীরে ধীরে সে বসতে, দাঁড়াতে এবং হাঁটতে পারে।
পরামর্শ: শিশুর শারীরিক বিকাশের এই পর্যায়ে তাকে খেলনা দিয়ে হাত পা ছুড়ার সুযোগ দিন, এটি তার মোটর দক্ষতা বাড়াবে।
২. মানসিক বিকাশ: চিন্তা ও অনুভূতির প্রথম আলো
শিশুর মানসিক বিকাশও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টায় তার অনুভূতি এবং চিন্তা-ভাবনার প্রথম ভিত্তি তৈরি হয়। প্রথম কিছু মাসে শিশুর মুখের অভিব্যক্তি এবং শব্দ চেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
পরামর্শ: ঘুমানোর আগে লরি শুনানো বা বই পড়ে শুনানো মুলত মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। মুলত সুর বা গল্প তার ভাষা এবং কগনিটিভ দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. সামাজিক বিকাশ: সবার সাথে সম্পর্ক তৈরি
শিশু জন্মের পর থেকেই তার চারপাশের মানুষদের থেকে শিখতে থাকে। চারপাশের মানুষের অঙ্গভঙ্গি, অভিব্যাক্তি শিশুকে প্রভাবিত করে। প্রথম দিকে সে বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যদের ফলো করে। তাদের কাছ থেকে ভালোবাসা এবং সামাজিক আচরণ শিখে।
তারা যা করবে তারই ভার্সন শিশুর মধ্যে প্রকাশ পায়। সে আস্তে আস্তে নিজে নিজে খাওয়ার চেষ্টা করে এবং তার বিভিন্ন ভাবে সামাজিক সম্পর্কের জায়গায় পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
পরামর্শ: শিশুকে নিজের মতো সময় কাটাতে দিন, যেন সে সামাজিক বিকাশে মনোযোগ দিতে পারে। অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করতে দেওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যা তার সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
৪. ভাষার বিকাশ: শিশুর প্রথম কথা
শিশু জন্মের পর পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে তার ভাষার বিকাশ ঘটে। অনেকের আগে অনেকের পরে হয় তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। যার যেমন সময় লাগে প্রসেস করতে। বসা, হাঁটা, দৌড়ানোতেও অনেকের আগে পিছে হয়।
ভাষার বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথমে সে অজ্ঞাত শব্দ উচ্চারণ করে। আস্তে আস্তে সে এমন ভাষায় কথা বলবে যে বুঝার উপায় নেই। কিন্তু একটু একটু করে সঠিক শব্দ বলতে শিখে যাবে।
শিশুর ভাষার বিকাশে সবছেয়ে কাজে দেয় মায়ের সাথে কথোপকথন। খেয়াল করে দেখবেন শিশুটি অনেক কিছুই আপনাকে বলতে চাচ্ছে। মনোযোগ/আগ্রহ দিয়ে তা শুনা এবং রিস্পন্স করাও কিন্তু এই বিকাশে অনেক কার্যকরী। এই পর্যায়ে ভালবাসার বন্ধনটাও আরো মজবুত হয়।
তাকে পরিবেশের ভাষাগত উদাহরণ দেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন দরজা দেখিয়ে দরজা বলা, গরুর ছবি দেখিয়ে গরু বলা, ইত্যাদি। এর দ্বারাও সে আগ্রহের সাথে অনেক কিছু শিখতে চায় এবং শিখে ফেলে।
পরামর্শ: শিশুর সাথে প্রতিদিন কথা বলুন, এটি তার ভাষার বিকাশে সহায়ক হবে। সে উচ্চারণ ভুল করলেও মজার ছলে তাকে সঠিকভাবে উচ্চারণ শেখান এবং তার উত্তরের জন্য উদ্দীপনা দিন।
৫. আত্মবিশ্বাসের বিকাশ: আত্মবিশ্বাসের দিকে প্রথম পদক্ষেপ
শিশুর আত্মবিশ্বাস তার বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুরুর দিকে, শিশুর মনোভাব এবং সাফল্যের অনুভুতি তার আত্মবিশ্বাস গড়তে সাহায্য করে। প্রথমে তাকে ছোট ছোট কাজ বা বিকাশের জন্য কিছু একটা ট্রিট বা গিফট দিন, এটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
পরামর্শ: যখন শিশু নতুন কিছু শেখে তার প্রশংসা করুন । তাকে ভয়ের পরিবর্তে, সাহস দিন।
শেষ কথা
শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের এই পাঁচটি দিক তাকে সুস্থ ও সুখী জীবন গড়ার দিকে পরিচালিত করে। অভিভাবক হিসেবে, আপনি যখন এই দিকগুলো লক্ষ্য করবেন এবং তার সাথে তার বিকাশে কাজ করবেন, তখন আপনার শিশুর বিকাশ আরও সমৃদ্ধ হবে।